গণসংহতি আন্দোলনের গঠনতন্ত্র হলো দলের আদর্শ, লক্ষ্য, সংগঠন পরিচালনা এবং গণতান্ত্রিক চর্চার মূল ভিত্তি। এই দলিলের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার রাজনৈতিক অঙ্গীকার স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এখানে দল নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে মুক্তিযুদ্ধের জনআকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে একটি অসাম্প্রদায়িক, সমতাভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। শ্রেণি, ধর্ম, লিঙ্গ বা জাতিগত বিভাজনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের পথই এই গঠনতন্ত্র নির্দেশ করে।
গঠনতন্ত্রে দলের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা, দায়িত্ব ও অধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, সমালোচনা ও আত্মসমালোচনার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দলের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চার প্রাণ।
জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলন (প্রতি ৩ বছর অন্তর) দলের সর্বোচ্চ সংস্থা। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় পরিষদ, জেলা/থানা/ইউনিয়ন কমিটি ও প্রাথমিক কমিটি—প্রতিটি স্তরে নেতৃত্ব নির্বাচিত হয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। জেলা কমিটি গঠনের জন্য ন্যূনতম ৩টি থানা ও ৩ জন সংগঠক সদস্য প্রয়োজন, আর থানা কমিটির জন্য ১ জন সংগঠক সদস্য বাধ্যতামূলক।
এছাড়া দল পরিচালনার নীতি, শৃঙ্খলা রক্ষা, আর্থিক স্বচ্ছতা, অভ্যন্তরীণ আলোচনা এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের নিয়মাবলীও এই গঠনতন্ত্রে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে। নারী-পুরুষ সমতার প্রশ্নে দল বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



