হাসান মারুফ রুমী গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য এবং চট্টগ্রামের গণআন্দোলনের একজন পরিচিত সংগঠক। ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলন, নগরবাসীর নাগরিক অধিকার, পরিবেশ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। চট্টগ্রামে ছাত্র ফেডারেশন এবং পরবর্তীতে গণসংহতি আন্দোলনের সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
স্থানীয় জনস্বার্থের প্রশ্নকে জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর পরিসরের সঙ্গে যুক্ত করে গণমানুষকে সংগঠিত করার মধ্য দিয়ে তিনি চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।
১৯৭৪ সালের ১৫ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন হাসান মারুফ রুমী। রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ার আগেই তিনি স্কুলজীবনে নিজ এলাকার তরুণদের সংগঠিত করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতেন। সমাজ ও জনজীবনের নানা সমস্যার প্রতি তাঁর আগ্রহ এবং মানুষের জন্য কাজ করার প্রবণতা পরবর্তীতে তাঁকে রাজনৈতিক আন্দোলনের পথে নিয়ে আসে।
১৯৯২ সালে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনে যোগ দেন। ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি গণতন্ত্র, শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেন। চট্টগ্রামে ছাত্র ফেডারেশনের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ছাত্রজীবনেই তিনি স্কুল রক্ষা, খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানীয় আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামে সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলন, বর্ধিত বেতন-ফি প্রত্যাহারের আন্দোলন এবং যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পালন করেন।
২০০২ সালে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি ছাত্র রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের প্রক্রিয়ায় হাসান মারুফ রুমী অন্যতম সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। চট্টগ্রামে সংগঠনটির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। বিভিন্ন গণআন্দোলন, রাজনৈতিক প্রচারাভিযান এবং জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক উপস্থিতি শক্তিশালী করতে কাজ করেছেন।
বর্তমানে তিনি দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
হাসান মারুফ রুমীর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জাতীয় সম্পদ ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলন। চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশি কোম্পানি এসএসএ-এর কাছে দীর্ঘমেয়াদে লিজ দেওয়ার উদ্যোগের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনে তিনি সামনের সারির সংগঠক ছিলেন।
চট্টগ্রাম বন্দরকে জাতীয় মালিকানায় রেখে আধুনিকায়নের দাবিতে পরিচালিত আন্দোলন জনমনে ব্যাপক সাড়া সৃষ্টি করে। একইসঙ্গে জাতীয় সম্পদ রক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে পরিচালিত বিভিন্ন আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
পরিবেশ ও জনজীবনের প্রশ্নেও তিনি ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় থেকেছেন। সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি চট্টগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান করেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পরিকল্পনার ফলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে তিনি এ বিষয়ে জনমত গড়ে তোলেন এবং আন্দোলন সংগঠিত করেন। আন্দোলনের ফলে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা গণআন্দোলনে হাসান মারুফ রুমী গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন। তিনি একদিকে নগরবাসীকে সংগঠিত করেন, অন্যদিকে আইনি লড়াইয়ের পথও অনুসরণ করেন।
জনগণের অংশগ্রহণে পরিচালিত আন্দোলন এবং উচ্চ আদালতে আইনি পদক্ষেপের সমন্বয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত কর আরোপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তিনি সফল ভূমিকা পালন করেন। এই আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে একজন জনস্বার্থনির্ভর রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
গার্মেন্ট শ্রমিক, ভাসমান শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও তিনি সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করেছেন। শ্রমজীবী মানুষের দাবি-দাওয়ার প্রশ্নে বিভিন্ন সময়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং জনমত গড়ে তুলতে কাজ করেছেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার সঙ্গেও যুক্ত আছেন। সামাজিক সচেতনতা, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও চিন্তাশীল উদ্যোগে তিনি সম্পৃক্ত থেকেছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন হাসান মারুফ রুমী। নির্বাচনী প্রচারণার মাধ্যমে তিনি নগরবাসীর অধিকার, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, জনসেবা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নগুলোকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন।
হাসান মারুফ রুমীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি জনস্বার্থ, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং জাতীয় সম্পদ ও জনগণের অধিকার রক্ষার সংগ্রাম। স্থানীয় সমস্যাকে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করে জনগণকে সংগঠিত করার মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করে আসছেন।
চট্টগ্রামের নাগরিক অধিকার, পরিবেশ, জাতীয় সম্পদ, শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিকাশের প্রশ্নে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থেকে গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।