আবুল হাসান রুবেল

নির্বাহী সমন্বয়কারী
আবুল হাসান রুবেল গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক আন্দোলনের একজন সংগঠক। ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলন এবং বিকল্প শিক্ষাচর্চার ক্ষেত্র; সবগুলো ক্ষেত্রেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু হওয়া তাঁর রাজনৈতিক পথচলা একদিকে যেমন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে তেমনি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষার বিকল্প মডেল নির্মাণের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি সংগঠনের অন্যতম কেন্দ্রীয় সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী হিসেবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
১৯৭৪ সালের ৩ নভেম্বর পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে জন্মগ্রহণ করেন আবুল হাসান রুবেল। স্কুলজীবন থেকেই তিনি ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। রাজশাহী কলেজে অধ্যয়নকালে সমাজ পরিবর্তনের চিন্তা, রাজনৈতিক দর্শন এবং বিকল্প সমাজ নির্মাণের প্রশ্নে তাঁর আগ্রহ গড়ে ওঠে।
১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পরিসর আরও বিস্তৃত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি রাজনৈতিক শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে গুরুত্ব দিয়ে “সূচনা অধ্যয়ন চক্র” নামে একটি পাঠচক্র গড়ে তোলেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও রাজনীতি বিষয়ে সমালোচনামূলক চিন্তার পরিবেশ তৈরি হয়।
১৯৯৪ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ও নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থী অধিকার, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণআন্দোলনেও তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশে জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০০২ সালের ২৯ আগস্ট গণসংহতি আন্দোলন প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়, তার অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন আবুল হাসান রুবেল। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল সংগঠক হিসেবে কাজ করে আসছেন।
গণসংহতি আন্দোলনের সাংগঠনিক বিস্তার, রাজনৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০১৬ সালের সাংগঠনিক সম্মেলনে তিনি দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
২০১৭ সালের ২৬ মে গণসংহতি আন্দোলনের তৎকালীন নির্বাহী সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের মৃত্যুর পর তিনি নির্বাহী সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রেও আবুল হাসান রুবেলের রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান। উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য পরিচালিত “সুলতান সোফা পাঠশালা”-র প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে ২০০৯ সালে ঢাকার মিরপুরে তিনি “আমাদের পাঠশালা” প্রতিষ্ঠা করেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি বিকল্প শিক্ষাচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
বর্তমানে তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থেকে অবসর নিলেও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সংগঠক হিসেবে যুক্ত আছেন এবং এর উন্নয়ন ও কার্যক্রমে ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
আবুল হাসান রুবেল রাজনৈতিক শিক্ষা, অর্থনীতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তাঁর প্রবন্ধ, বিশ্লেষণ এবং মতামত বিভিন্ন দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে মাঠের অভিজ্ঞতা এবং তাত্ত্বিক চর্চার সমন্বয়ের মাধ্যমে তিনি জনপরিসরে গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে মতামত প্রদান করে আসছেন।
আবুল হাসান রুবেলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি নির্মাণ, রাজনৈতিক শিক্ষা বিস্তার এবং সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রশ্ন। ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতি, সংগঠন গঠন, শিক্ষা উদ্যোগ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা; প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন।
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সংগঠন নির্মাণ, রাজনৈতিক শিক্ষা এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে গণসংহতি আন্দোলনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

আবুল হাসান রুবেল

নির্বাহী সমন্বয়কারী
আবুল হাসান রুবেল গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক আন্দোলনের একজন সংগঠক। ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলন এবং বিকল্প শিক্ষাচর্চার ক্ষেত্র; সবগুলো ক্ষেত্রেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু হওয়া তাঁর রাজনৈতিক পথচলা একদিকে যেমন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে তেমনি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষার বিকল্প মডেল নির্মাণের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি সংগঠনের অন্যতম কেন্দ্রীয় সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী হিসেবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
১৯৭৪ সালের ৩ নভেম্বর পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে জন্মগ্রহণ করেন আবুল হাসান রুবেল। স্কুলজীবন থেকেই তিনি ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। রাজশাহী কলেজে অধ্যয়নকালে সমাজ পরিবর্তনের চিন্তা, রাজনৈতিক দর্শন এবং বিকল্প সমাজ নির্মাণের প্রশ্নে তাঁর আগ্রহ গড়ে ওঠে।
১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পরিসর আরও বিস্তৃত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি রাজনৈতিক শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে গুরুত্ব দিয়ে “সূচনা অধ্যয়ন চক্র” নামে একটি পাঠচক্র গড়ে তোলেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও রাজনীতি বিষয়ে সমালোচনামূলক চিন্তার পরিবেশ তৈরি হয়।
১৯৯৪ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ও নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থী অধিকার, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণআন্দোলনেও তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশে জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০০২ সালের ২৯ আগস্ট গণসংহতি আন্দোলন প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়, তার অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন আবুল হাসান রুবেল। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল সংগঠক হিসেবে কাজ করে আসছেন।
গণসংহতি আন্দোলনের সাংগঠনিক বিস্তার, রাজনৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০১৬ সালের সাংগঠনিক সম্মেলনে তিনি দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
২০১৭ সালের ২৬ মে গণসংহতি আন্দোলনের তৎকালীন নির্বাহী সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের মৃত্যুর পর তিনি নির্বাহী সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রেও আবুল হাসান রুবেলের রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান। উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য পরিচালিত “সুলতান সোফা পাঠশালা”-র প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে ২০০৯ সালে ঢাকার মিরপুরে তিনি “আমাদের পাঠশালা” প্রতিষ্ঠা করেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি বিকল্প শিক্ষাচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।