একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে (২০০০ সাল থেকে) যে সময়ে নানা হতাশায় তরুন প্রজন্ম রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়েছিল সেই সময় আবদুল আলিম গণসংহতি আন্দোলন নামক নতুন একটা রাজনৈতিক দলের গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছিলেন। তখন তিনি মাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্মান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নামক অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত কিন্তু উন্নত চিন্তাধারার একটি ছাত্র সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সক্রিয় সংগঠক ছিলেন তিনি।
আবদুল আলিমের ছোটবেলা ও স্কুলজীবন (১৯৯০-১৯৯৭) কেটেছে বেড়া উপজেলার আলহেরা একাডেমি স্কুলে। শৈশবে কৃতিত্বপূর্ণ একাডেমিক ফলাফল ছাড়াও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে তার সক্রীয় অংশগ্রহণ ছিলো। বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা, নির্ধারিত বক্তৃতা ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় জিতে তিনি আলহেরা একাডেমিসহ বেড়া উপজেলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন। এরপর তিনি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে নটরডেম কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করেছেন।
একজন সমাজ সচেতন তরুণ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবনে তিনি দারুণভাবে সক্রিয় থেকেছেন। সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস ও অর্থনীতিসহ বহুমুখী বিষয়ে পড়াশোনা,সভা-সেমিনার পাঠচক্রে সক্রীয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে তৈরি করেছেন। ২০০২ সালের জুলাই মাসে শামসুন্নাহার হলে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশী হামলার প্রেক্ষিতে গড়ে ওঠা “নির্যাতন বিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ” ব্যানারের ছাত্রআন্দোলনকে বলা হয়ে থাকে ৯০ পরবর্তী সময় থেকে ঐ সময় পর্যন্ত সবচেয়ে বড়ো ছাত্র আন্দোলন। তিনি সেইসময় ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অর্থ সম্পাদক ও পরে সহ-সভাপতি হয়ে সক্রিয় সংগঠক হিসেবে কাজ করে নিজের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রস্তুতি শেষ করেছেন।
এর ঠিক পরপরই (২০০২ সালের ২৯ আগষ্ট) জোনায়েদ সাকিসহ অন্যান্য সহযোদ্ধারা মিলে গড়ে তুলেছেন গণসংহতি আন্দোলন নামক রাজনৈতিক দল। ৭২’র সালের স্বৈরতন্ত্রী সংবিধান বদলের গণতান্ত্রিক সংবিধান কায়েম ও বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি গড়ে তোলার আহ্বান তুলে প্রথম থেকেই দলটি আলোচিত থেকেছে রাজনৈতিক মহলে। গঠনকাল থেকেই তিনি বেড়া আঞ্চলিক শাখার সংগঠক হিসেবে দলীয় রাজনীতি গড়তে সচেষ্ট থেকেছেন। জাতীয় সম্পদ তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষার আন্দোলনে সক্রিয় থেকেছেন।
এরপর ওয়ান ইলেভেনের আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্যাঁচে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হলে এক দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসন ও শোষণের জাঁতাকলে আটকে পরে এদেশের রাজনীতি। তিনি ও তার দল গণসংহতি আন্দোলন সরকারি জুলুম ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। গণসংহতি আন্দোলন ২০২১ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ৪র্থ সম্মেলনে গৃহীত রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিলো ‘জনগণের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা’। এরপর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই দেশে ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যুগপৎ আন্দোলনের কার্যকর ঐক্য গড়ে উঠেছিলো।
এসব জাতীয় রাজনৈতিক ভূমিকায় দলটির নেতা ও বাংলাদেশ কৃষক মজুর সংহতির তৎকালীন সদস্যসচিব জননেতা জোনায়েদ সাকি ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়লে সংগঠনটি নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে সচেষ্ট হয়। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে সংগঠনটি ২০২৩ সালের ২০ মার্চ রংপুরে প্রথম সম্মেলন সম্পন্ন করে এবং আবদুল আলিমকে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করে।
এরপর আবদুল আলিম দলের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কার্যক্রমে আরোও অধিকতর দ্বায়িত্ব পালন করতে শুরু করেন। যুগপৎ আন্দোলনের সময়ে ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর হরতাল পালনকালে কল্যাণপুরে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্বে সহযোদ্ধাদের সাথে রাজপথে ছিলেন। ১৯ জুলাই গণতন্ত্র মঞ্চ’র মিছিলে পুলিশি হামলায় জোনায়েদ সাকি সহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের সাথে তিনিও আহত হয়েছিলেন। ধারাবাহিক লড়াই সংগ্রামের মূল্যায়ন হিসেবে তিনি দলের ৫ম কেন্দ্রীয় সম্মেলনে তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
সমাজ সচেতন তরুণ রাজনৈতিক এই ব্যক্তি প্রতিহিংসা ও ঘৃণার রাজনীতির বিপরীতে সাম্য-মৈত্রীর সমাজ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সচেষ্ট আছেন।