আজ জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা একটা স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে। অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ভিন্নমত ও আপত্তি বাদ দিলেও যেসব বিষয়ে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাও তাৎপর্যপূর্ণ।
সংসদ সদস্যদের নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট প্রদানের অধিকার, বিরোধী দলের সদস্যদের ডেপুটি স্পিকার সহ বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির প্রধান হওয়ার বিধান, প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আপিল বিভাগের বিচারপতিদের ভেতর থেকে জৈষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, সরকার বিরোধী দল ও বিচার বিভাগের প্রতিনিদের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ ইত্যাদি যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
এই দাবিগুলো বহুদিন ধরে জনগণের আন্দোলন সংগ্রামে উঠেছে এবং সবশেষে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়েছে। এই আকাঙ্ক্ষারই প্রকাশ জুলাই জাতীয় সনদ।
ফলে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করা কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আমাদের রাজনৈতিক কমিটমেন্টের প্রকাশ। রাজনৈতিকভাবে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে যে আমরা সর্বাগ্রে স্থান দেই তার প্রকাশ। এই অঙ্গীকারের মূল্য অপরিসীম।
অনেকে এটাকে তিন জোটের রূপরেখার সাথে তুলনা করেন। এটা একেবারেই ভুল তুলনা। এর পরিপ্রেক্ষিত যেমন আলাদা তেমনি প্রক্রিয়াও আলাদা। এর পেছনে রাজনৈতিক অঙ্গীকার আগের চাইতে অনেক শক্তিশালী। সর্বোপরি এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে পরিপূর্ণ ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত না হলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকখানি কাছাকাছি জায়গায় পৌঁছেছে দলগুলো। কমিশনের মেয়াদ আরও ১৫ দিন বাড়ছে। ফলে এক্ষেত্রেও একটা সমাধানে ঐকমত্যের ভিত্তিতেই পৌঁছানোর ভালো সম্ভাবনা আছে।
যারা নানা অজুহাতে জুলাই সনদ স্বাক্ষরে অনীহা প্রকাশ করছেন তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে এসে এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন বলে আশা করি।
শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে বাংলাদেশের একটা সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ঘটাতে হবে। আসুন সকলে মিলে সেটা বাস্তবায়ন করি।
১৭/১০/২০২৫
সূত্র : https://www.facebook.com/share/p/1BTZxEf7mV/